"আপনি করতে পারেন" আর "আপনাকে করতে হবেই" এই দুই লাইন এর মধ্যে বিরাট ফারাক বিরাজমান। এই ফারাক বুঝতে না পারলে আপনাকে এই ফারাক এর মধ্যে পড়ে হাবুডুবু খেতে হবে। নাস্তিক এবং নারীবাদী সমাজ আমাদের পবিত্র নবীজির চার বিয়ে একটা ট্রেণ্ড ছড়িয়ে দিয়েছে সমাজে যে ইসলামে চার বিয়ে করার কথা বলে গিয়েছেন নবীজি। নবীজি চার বিয়ে করেছেন কথা সত্যি কিন্তু পবিত্র কোরআন এর কোথাও বলা নেই যে পুরুষকে বাধ্যতামূলক চার বিয়ে করতেই হবে। একইভাবে নবীজির আয়েশাকে ৬ বছরে বিয়ে নিয়ে নাস্তিক এবং নারীবাদী সমাজ এর মন্তব্য হল নবীজি নাকি শিশুকামী ছিলেন, নাউজুবিল্লাহ মিন জালেক। এই সল্প শিক্ষিত মূর্খ নাস্তিক এবং নারীবাদী সমাজ এর বোধজ্ঞান ঠিক কোন পর্যায় এই বিষয় আমি শিওর নই, শিশুকাম হল শিশুদের উপর যৌন কামনা থাকা এমন কোন পুরুষ বা নারী যারা প্রায়শ চেষ্টা করে থাকে শিশুদের উপর যৌন নির্যাতন চালানোর। এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ একজন নারী এবং পুরুষ এর মধ্যে স্বাভাবিক এবং ধর্ম ও সমাজ স্বীকৃত শারীরিক মিলনকে তারা ঠিক কোন লজিকে একসাথে মিলায় এই বিষয় আমার ধারনা নেই। এমন কোন কিতাব নেই যার রেফারেন্স এটা প্রমাণ করতে সমর্থ যে আমাদের পবিত্র নবীজি আয়েশাকে জোরপূর্বক বিবাহ করেছিলেন। কিন্তু আয়েশার বয়স ৬ ছিল বলে নবীজির আয়েশাকে বিবাহ করাকে এরা শিশুকাম বলে চালিয়ে দিল নিজের মতন করে। আয়েশা ঋতুবতী হয়েছিল ৯ বছরে এর আগে নবীজি তার সাথে ফুলশয্যা করেননি। অর্থাৎ ৯ বছর বয়সে আয়েশা তার স্বামীর সাথে মিলিত হবার জন্য উপযুক্ত হয়েছিল। কথা অনেক সময় এখান থকেই শুরু করতে চায় নাস্তিক এবং নারীবাদীরা। তাদের ভাষ্যমতে, ঋতুবতী হলেই বিয়ের উপযোগী হয় নাকি মেয়েরা? একটা ৯ বছরের বাচ্চা যৌন মিলন সম্পর্কে কি বোঝে? এই হচ্ছে তাদের বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন। এর উত্তর হল ঋতুবতী হওয়া মানে সেই মেয়ে তার জীবন এর ইতিমধ্যে একটা ধাপ পার হয়ে আরেকটা ধাপে প্রবেশ করেছে সেই ধাপে সে মা হতে সক্ষম। আর মা হতে সক্ষম যে মেয়ে তাকে সামাজিক এবং ধর্মীয় রীতি মেনে কোন পুরুষ যদি বিবাহ করে তাহলে তাদের মধ্যে যৌনাচারকে স্বাভাবিক বলেই গণ্য করা হবে, এই ক্ষেত্রে মেয়ের ঋতুবতী হয়ার ব্যাপারটা ৯ বছরে হল বা ১২ বছরে হল বা এর পরে হল এর সাথে কোন সম্পর্ক নেই। আর যে মেয়ে ঋতুবতী হবে সে প্রাকিতিকভাবেই যৌনাচার সম্পর্কে জানবে এবং ধাপে ধাপে সে বিয়ে, সংসার, স্বামী, পরিবার এসব বিষয় সম্পর্কে উপলদ্ধি করতে পারবে। সুতরাং, নবীজির আয়েশাকে বিবাহ করাকে কোনোভাবেই শিশুকাম বলা যাবে না। তবে এটাকে ডিফেণ্ড করতে গিয়ে অনেকেই আরবের মেয়েরা আগে ঋতুবতী হয়, তাদের শারীরিক গ্রোথ এশিয়ার মেয়েদের থেকে অনেক বেশি জাতীয় কথা বলে থাকেন। আর ঠিক এই মূর্খতাকে কাজে লাগিয়েই নাস্তিক এবং নারীবাদীরা আরও একধাপ এগিয়ে নবীজির সমালোচনা করার সুযোগ পায়, একজন মানুষ এর শারীরিক গ্রোথ তার জেনেটিক্স এর উপর নির্ভর করে, তার পূর্বপুরুষ এর জেনেটিক্স। ইউরোপ এর সাদা দম্পতি ঢাকায় এসে বসবাস করলে তাদের সন্তান এদেশীয়দের মতু গায়ের রং নিয়ে জন্মাবে না শুধুমাত্র এই দেশীয় "আবহাওয়া বা জলবায়ুগত কারনে", তাদের সন্তান শ্বেতাঙ্গ হবে কারন তারা শ্বেতাঙ্গ। একটা মেয়ে কখন ঋতুবতী হবে এইটা তার জেনেটিক্স। এর উপর নির্ভর করবে, ""আবহাওয়া বা জলবায়ুগত " কারনের জন্য হয়। আমাদের নবীজির করা প্রত্যেকটি কাজের উপযুক্ত ব্যাখ্যা আছে, সুতরাং এইসব লজিক বহির্ভূত কথা বলে কেউ যাতে সমাজ এবং ধর্ম বিরোধী নাস্তিক এবং নারীবাদীদের আমাদের পবিত্র নবীজিকে সমালোচনার সুযোগ না করে দেয় সেই ব্যাপারে আমাদের লক্ষ্য রাখা আশু জরুরি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
নারীবাদ বিরোধী পোস্ট- ৭৪
না-রীবাদ বিরোধী প্রচার করে সোশ্যাল মিডিয়া কাপিয়ে ফেলা "কিছু" পুরুষগন "মা-বোন" ইসুতে গিয়ে ভিজে বিড়াল হয়ে জাওয়ার ঘটনা ইদ...
-
না-রীবাদ বিরোধী প্রচার করে সোশ্যাল মিডিয়া কাপিয়ে ফেলা "কিছু" পুরুষগন "মা-বোন" ইসুতে গিয়ে ভিজে বিড়াল হয়ে জাওয়ার ঘটনা ইদ...
-
বোরখা পরিহিতা মায়ের ছেলের সাথে ক্রিকেট খেলায় নারীবাদীদের এতো সমস্যা কেন ঠিক বোধগম্য না। এটা এক ধরনের মানসিক ব্যাধি তাদের। তারা চায় মেয়েদের...
-
বিশেষ বিশেষ প্রোগ্রাম ছাড়া সচারচর দৈনন্দিন জীবনে শাড়ি পরে না বাংলাদেশ এর "বেশিরভাগ" নারী। এরপরেও "শাড়িতেই নারী" মানুষ ...
No comments:
Post a Comment