Thursday, April 6, 2023

নারীবাদ বিরোধী পোস্ট- ২৬

 দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সমাজ নীতি এবং টোটাল ইসলামিক রীতি অনুযায়ী একটা পুরুষ এর দায়িত্ব হল পরিবার চালানো। মেয়েদের নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সন্তানের পিতার ওপর সন্তানের মায়ের জন্য অন্ন-বস্ত্রের উত্তম পন্থায় ব্যবস্থা করা একান্ত দায়িত্ব।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৩৩)।

ইসলাম নারীকে বাইরে গিয়ে চাকরী করার অনুমতি দেয় নাই এইটা যেমন সত্য নয় তেমনি বর্তমানে সমাজ এর পরিস্থিতি মেয়েদের বাইরে গিয়ে কাজ করার উপযুক্ত এটাও সত্য নয়। কোরআন ও হাদিসের কোনো স্থানে নারীর কাজকর্মের ব্যাপারে কোনো বিধিনিষেধ আরোপিত হয়নি। শুধু দু’টি বিষয়ের প্রতি সঙ্গত কারণে নির্দেশ দিয়েছে। শর্ত দু’টি হলো প্রথমত, ব্যবসা হতে হবে হালাল পদ্ধতিতে ও শরিয়ত নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে। দ্বিতীয়ত, পর্দা রক্ষা করতে হবে। তাছাড়া ইসলাম নারীদের সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী কোনো পেশায় নিয়োজিত হতেও নিষেধ করেছে।
যেহেতু পবিত্র কোরআন এবং হাদিস এর আলোকে উপরের শর্তদ্বয় ইসলামিক শারিয়া ছাড়া বাস্তব জীবনে প্রয়োগ সম্ভব নয় তাই এই অঞ্চলের হুজুররা বা ইসলামিক স্কলাররা মেয়েদের বাইরে গিয়ে চাকরী করাটাকে নিরুৎসাহিত করেছে। এখানে ইসলাম মানলে ইসলামিক রীতি অনুযায়ী উপরে বর্ণিত শর্তদ্বয় পরিপূর্ণ করতে অক্ষম হলে একটা মেয়ে অবশ্যই চাকরী করতে বাইরে যাবে না। কিন্তু হুজুররা ইসলামিক বয়ানে পবিত্র কোরআন এবং হাদিস এর আলোকে উপযুক্ত এই ব্যাখ্যাটা দিলেই দেখা যাচ্ছে বর্তমানে তথাকথিত নারীবাদী মেয়েরা হুজুরদেরকে নারী বিদ্বেষী ট্যাগ দিয়ে দিচ্ছে যেটা কিনা আবার নাস্তিক সমাজে বেশ জনপ্রিয় বচন।
ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিকে আপনি কোন বিশেষ ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা কারোর অনুভুতিতে আঘাত না করে নিজের মতামত প্রকাশ করার অধিকার রাখেন তবে আধা ধর্ম মেনে আধা নাস্তিক ভাবে চললে সেটা ধর্মের অবমাননা হয় বিধায় সেটা আইনের চোখেই দণ্ডনীয় অপরাধ।
এইবার আসি ইসলামিক নারীবাদীদের কথায়, যাদের দেখা যায় ইসলামিক নাম দিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছে,হিজাব এমনকি বোরখাও পরছে কিন্তু সবকিছু বুঝে শুনেও চাকরী করবার ইচ্ছা পোষণ করছে। এবং তাদেরকে পরিবার থেকে বা স্বামী বাঁধা দিলে তাদেরকেই নারী বিদ্বেষী ট্যাগ দিয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ এরা আমার উপরে বলা পবিত্র কোরআন এবং হাদিস এর ব্যাখ্যা জেনে শুনে বুঝে সরাসরি ইসলাম এর বিরোধিতা করছে তথাকথিত নারীর কর্মক্ষেত্রে যোগদান এবং নারীর অধিকার এর নাম নিয়ে। যেটা সরাসরি ইসলাম অবমাননার শামিল। আর এই ইসলাম অবমাননার জন্য এই নারীবাদীরা অবশ্যই আইনত দণ্ড পাবার যোগ্য।
ক্ষেত্র বিশেষে অনেক মেয়েকে পারিবারিকভাবে বাজে অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয় বলে তারা চাকরী করতে বাধ্য হয়, তাদের ক্ষেত্রে মানবতার খাতিরে কনসিডার করা যেতেই পারে তবে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম দেশের সামাজিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ এর খাতিরে একটা মেয়ের থেকে একটা ছেলের চাকরী পাওয়াটা জরুরি, সমমানের একটা ছেলের দায়িত্ব তার বউ নেবে না কিন্তু মেয়ের দায়িত্ব তার স্বামী নেবে বিধায় একটা মেয়ের বদলে একটা ছেলে চাকরী পেলে সেখানে পুরো পরিবার এর মঙ্গল হবে, মনে রাখতে হবে ইসলাম সমান অধিকারে বিশ্বাসী না, ইসলাম ন্যায্য অধিকারে বিশ্বাসী, আর ইসলাম নারীর ন্যায্য অধিকার ঘরেই নির্ধারণ করেছে, বাইরে নয়।
All reactions:
Samiya Chowdhury, Hyeon Jin Hwang and 81 others
15
6
Like
Comment
Share
View more comments

No comments:

Post a Comment

নারীবাদ বিরোধী পোস্ট- ৭৪

  না-রীবাদ বিরোধী প্রচার করে সোশ্যাল মিডিয়া কাপিয়ে ফেলা "কিছু" পুরুষগন "মা-বোন" ইসুতে গিয়ে ভিজে বিড়াল হয়ে জাওয়ার ঘটনা ইদ...