Thursday, April 6, 2023

নারীবাদ বিরোধী পোস্ট- ২৪

 কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল "দুখু মিয়া"।ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করতে হয়েছিল বলে নজরুলের ডাকনাম ছিল 'দুখু মিয়া'। তো হঠাৎ এই নামের কাজী নজরুল ইসলাম এর প্রোফাইল পিকচার সম্বলিত ভদ্রলোকের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পেয়ে বেশ অবাক হলাম। আমি সাধারনত কারো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পেলে তার প্রোফাইলে করা পাবলিক পোস্ট, এর বিষয়বস্তু, কোন ধরনের ছবি সে পোস্ট করছে এসব দেখে তবেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহন করে থাকি। হঠাৎ এইরকম এক আনকমন প্রোফাইল থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পেয়ে কৌতূহলবশত ওনার প্রোফাইলে গিয়ে কাভারে কাজী নজরুল ইসলাম এর অগ্নিবীণা কবিতাটি দেখে প্রথমে ওনাকে বিদ্রোহী গোছের একজন মানুষ মনে হয়েছিল।

ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহন করলাম। এরপর ম্যাসেজ এল, গতকাল ভদ্রলোক এর প্রোফাইল থেকে, গ্রিট করলেন উনি আমায়, আমিও পাল্টা গ্রিট করলাম। কৌতূহল থেকে আবারো ওনার প্রোফাইলে গিয়ে দেখি উনি পোস্ট দিয়েছেন, 'আমার এই আইডিতে মেয়ে মানুষ এর কোন গ্রহনযোগ্যতা নাই। তাই মেয়ে মানুষরা নক দিবেন না কখনও........." আবারো অবাক হলাম, কেন এই ধরনের পোস্ট? সরাসরি জিজ্ঞাসা করলাম ওনাকে, এর কারণ কি? উত্তরে তিনি জানালেন, তিনি লাইফে অনেক শক খেয়েছেন, নারীর দ্বারা, নারীর জন্য জীবন নষ্ট হয় ছেলেদের, ধোঁকা দেয় মেয়েরা এইজন্য এরকম পোস্ট করেছেন।
প্রকিতিগত ভাবে মানব-মানবী বিপরীত লিঙ্গের উপর আকর্ষণ অনুভব করে, এইটা আল্লাহ প্রদত্ত, অস্বীকার করবার উপায় নেই। এর বিপরীত তখনই হবে যখন কেবলমাত্র এমন কিছু ঘটে থাকে একজন মানুষের জীবনে যেটা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং কল্পনাতীত। একজন পুরুষ খুব স্বভাবগত ভাবেই নারীর সঙ্গ প্রাপ্তি এবং প্রনয় লাভ করার ইচ্ছা করে থাকে প্রকিতিগত কারণ থেকে। এই প্রকিগত একটা ব্যাপার থেকে সে তখনই প্রকিতি বিরুদ্ধ আচরণ করবে বা করতে বাধ্য হবে তখনই যখন সে এমন কোন নারীর থেকে অগ্রহণযোগ্য আচরণ পাবে যার সাথে তার প্রনয় হবার কথা ছিল।
আমি এই দুখু মিয়ার দুঃখের কাহিনী কৌতূহলবশত কথাপ্রসঙ্গে তাকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পেরেছি, সমাজে এমন দুখু মিয়া আছেন আরও, অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করে না, কারণ তিনি পুরুষ। দুঃখ প্রকাশ করলে সবাই তিরস্কার করবে, কাপুরুষ ভাববে ইত্যাদি, এই লোকলজ্জার ভয়ে চুপ থাকবে, প্রকাশ করবে না। ব্যাপারটা এমন নয় যে শুধুমাত্র প্রনয় ঘটিত কারনে পুরুষ ধাক্কা খেয়ে রবোটিক আচরণ করতে বাধ্য হয়, সেটা হতে পারে পারিবারিক কারনে, হতে পারে স্ত্রী, কন্যা কিংবা মায়ের কাছ থেকে আশানুরূপ এবং তার প্রাপ্য ব্যাবহার না পেয়ে। কিন্তু সে প্রকাশ করে না অধিকাংশ সময়। কারণ সে পুরুষ, তার পৌরুষ এর ঘাটতি হবে বলে সমাজ তিরস্কার করবে। মনকষ্ট সে মনের মধ্যেই পুষে রাখে।
একটা মেয়ের পক্ষে এসব উপলদ্ধি করা সহজ নয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কেবলমাত্র তাদের পিতার উধাহরন দিলে তারা এর মর্মার্থ হয়তোবা কিছুটা অনুধাবন করতে পারে পিতার প্রতি মেয়েদের একটা আত্মিক টান থেকে। তবে সেই দিন এর শেষ হতে চলেছে এখন ধীরে ধীরে, আজকাল তথাকথিত নারী অধিকার এর বলে বলয়িত নারীবাদী শক্তির বিধায়ক নারীবাদী মেয়েরা তাদের পিতাকে দোষারোপ করে বেড়াচ্ছে যত্রতত্র,তাদের মনমতন উন্মুক্ত স্বাধীনচেতা, ধর্ম বিরোধী জীবনযাপনে তাদের পিতা হস্তক্ষেপ করছে বিধায়। এতটাই নিচে নেমে গেছে মেয়েরা যে কেউ কেউ আগ বাড়িয়ে তাদের পিতাকে বৈবাহিক ধর্ষক ট্যাগ পর্যন্ত দিয়ে দিচ্ছে। নারী শক্তির প্রমান দিতে হবে যে, সে হোক না যেন তেন উপায়।
আমি মেয়েদের এই উন্মুক্ত স্বাধীনচেতা, ধর্ম বিরোধী জীবনযাপন এর সরাসরি বিরোধীতা করছি। সমাজ স্বীকৃত এবং ধর্ম শিক্ষা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার অনুকরনে শালীন ভাবে যাতে মেয়েরা জীবন যাপনে আগ্রহী হয়, ইসলাম বিরোধী নারীবাদ এর মিথ্যা প্রোপ্যাগান্ডার দরুন মেয়েরা পুরুষকে প্রতিযোগী হিসাবে না দেখে যেন সহযোগী হিসাবে দেখে তাই এই ফেসবুককে আমার লেখার প্লাটফর্ম হিসাবে বেঁচে নিয়েছি। আমি গোঁড়া থেকে নারীবাদ এর মূল উৎপাটন করবো ইসলাম এর স্বার্থে এই আমার ওয়াদা।

No comments:

Post a Comment

নারীবাদ বিরোধী পোস্ট- ৭৪

  না-রীবাদ বিরোধী প্রচার করে সোশ্যাল মিডিয়া কাপিয়ে ফেলা "কিছু" পুরুষগন "মা-বোন" ইসুতে গিয়ে ভিজে বিড়াল হয়ে জাওয়ার ঘটনা ইদ...